সালাতুত তাসবিহ নিয়ে কিছু কথা:
সালাতুত তাসবিহ নিয়ে কোনো সহীহ হাদিস নেই। তবে অনেক জয়িফ হাদিস আছে। মুহাদ্দিসদের নীতি হলো, জয়িফ হাদিস যদি অনেক সনদে আসে, তবে তা হাসান পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং গ্রহণযোগ্য হয়।
কেউ কমেন্ট করেছিলেন, “অনেকে মিলে মিথ্যা বললে কি তা সত্য হয়ে যাবে?” না, জয়িফ হাদিস মানে মনগড়া নয়। জয়িফ হাদিসে রাবির কিছু দুর্বলতা থাকে। তবে অনেক সনদে এলে তা হাসান হয়। এই ভিত্তিতে জুমহুর উলামার মত হলো, সালাতুত তাসবিহর ওপর আমল করা যায়।
কিন্তু কিছু উলামা, যেমন ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এবং আমার নিজের ঝোঁকও এই মতে—তারা বলেন, জয়িফ হাদিস হাসান হলেও, যদি তা মুতাওয়াতির হাদিসের বিপরীত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। মুতাওয়াতির হাদিস থেকে প্রমাণিত নামাজে তিলাওয়াত ও রুকুর মাঝে বিলম্ব করা যায় না। সালাতুত তাসবিহে তাসবিহ পড়ে বিলম্ব করা হয়, যা মুতাওয়াতির হাদিসের বিপরীত। তাই হানাফি উসুলের আলোকে এটা ফিট করে না।
তবে জুমহুর উলামার মত হলো, হাসান হাদিসের ভিত্তিতে এটা জায়েজ। আল্লামা আলবানি (রহ.) এটাকে সুন্নত বলেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের মতের উপর ভরসা করেছেন। আমার মত হলো, আমি নিজে সালাতুত তাসবিহ পড়ি না, কিন্তু যারা পড়েন, তাদের বিরুদ্ধে বেদআত বলি না। এটা ইলমি মাসআলা, এতে কঠোরতা ঠিক নয়।
আল্লাহর রহমতে যারা জুমহুরের মত অনুসরণ করেন, তারা এর ফজিলত পাবেন। তবে আমার পরামর্শ, সালাতুত তাসবিহর সময়টা সাধারণ নামাজে লাগান। তবে যারা পড়ছেন, তাদের বেদআত বলা যাবে না।
আসসালামু আলাইকুম।


