ছায়ার আলো

ছোট্ট শহর মির্জাপুরের বুকে, যেখানে কুয়াশা সকালে গাছের পাতায় জড়িয়ে থাকে, সেখানে একটি পুরোনো প্রাসাদ ছিল। স্থানীয়রা বলত, প্রাসাদটির মালিক কোনো সাধারণ মানুষ নয়। তারা ফিসফিস করে বলত, সেখানে বাস করে জিন—এক রহস্যময় সত্তা, যে মানুষের ইচ্ছা পূরণ করে, কিন্তু তার বিনিময়ে কিছু চায়। শহরের প্রান্তে থাকত রিয়া। ত্রিশের কোঠায়, বিবাহিত, কিন্তু তার জীবনে একটা শূন্যতা ছিল। তার স্বামী আরিফ ব্যবসার কাজে মাসের বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকত। রিয়া ছিল একজন লেখিকা, যার কলমে জাদু ছিল, কিন্তু সম্প্রতি তার কলম থেমে গিয়েছিল। সে একটা গল্প খুঁজছিল, যা তার জীবনকে নতুন রঙ দেবে। এক রাতে, কুয়াশায় ঢাকা প্রাসাদের গল্প শুনে রিয়া সেখানে পা রাখে। স্থানীয়রা তাকে সতর্ক করেছিল, কিন্তু তার কৌতূহল তাকে টেনে নিয়ে যায়। প্রাসাদের ভেতরে পা রাখতেই সে একটা অদ্ভুত শীতলতা অনুভব করে। হঠাৎ, একটা কণ্ঠস্বর তাকে ডাকে, "তুমি কী চাও, রিয়া?" রিয়া চমকে উঠে। তার চারপাশে কেউ নেই, শুধু প্রাসাদের দেয়ালে নাচছে মোমবাতির আলো। কণ্ঠটি আবার বলে, "আমি জিন। আমি তোমার ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। কিন্তু তুমি কী দিতে প্রস্তুত?" রিয়া হাসে, ভেবে এটা তার মনের খেলা। কিন্তু সে বলে, "আমি একটা গল্প চাই। এমন গল্প, যা আমার জীবনকে বদলে দেবে।"
পরদিন থেকে রিয়ার জীবন বদলাতে থাকে। তার কলমে আবার প্রাণ ফিরে আসে। সে একটি গল্প লিখতে শুরু করে, যেখানে একজন রহস্যময় পুরুষের সঙ্গে এক নারীর দেখা হয়। কিন্তু গল্প যত এগোতে থাকে, রিয়া লক্ষ্য করে, তার গল্পের ঘটনাগুলো বাস্তবেও ঘটছে। রাতের বেলা তার স্বপ্নে আসে এক ছায়ামূর্তি—উঁচু কাঠামো, চোখে অদ্ভুত আলো। সে নিজেকে পরিচয় দেয় জিন হিসেবে। রিয়া ভয় পায়, কিন্তু একইসঙ্গে মুগ্ধ হয়। জিন তার সঙ্গে কথা বলে, তার গভীরতম ইচ্ছার কথা জানে। কিন্তু জিনের কথায় একটা ছায়া থাকে। সে বলে, "তোমার গল্প যত শক্তিশালী হবে, ততই তুমি আমার কাছাকাছি আসবে। কিন্তু সাবধান, আমি যা নিই, তা ফেরত দেওয়া যায় না।" রিয়ার স্বামী আরিফ ফিরে আসে। সে লক্ষ্য করে রিয়া বদলে গেছে। তার চোখে একটা অদ্ভুত আলো, তার কথায় রহস্য। আরিফ সন্দেহ করে, রিয়ার জীবনে কেউ এসেছে। কিন্তু রিয়া কিছুই বলে না। সে শুধু লিখে যায়, আর তার গল্পে জিনের উপস্থিতি আরও গাঢ় হয়। এক রাতে, রিয়া প্রাসাদে ফিরে যায়। সে জিনের মুখোমুখি হতে চায়। সেখানে জিন প্রকাশ পায়—একজন পুরুষের রূপে, যার চোখে শতাব্দীর গল্প লুকানো। জিন বলে, "তোমার গল্প আমাকে শক্তি দেয়। কিন্তু এটি শেষ করতে হলে, তোমাকে একটি সত্য বেছে নিতে হবে। তুমি কি আমার সঙ্গে থাকবে, নাকি তোমার জীবনে ফিরে যাবে?" রিয়া দ্বিধায় পড়ে। তার গল্প তাকে অমরত্বের দিকে টানছে, কিন্তু তার জীবনে আরিফ, তার পরিবার, তার বাস্তবতা রয়েছে। সে কি জিনের রহস্যের জন্য সব ছেড়ে দেবে? গল্প এখানে থামছে। আপনি কি চান রিয়া কোন পথ বেছে নিক? অথবা গল্পটি আরও কোন দিকে নিয়ে যেতে চান? জানালে আমি এগিয়ে যাব!
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url